বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
দেশে পরিচালিত ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অর্থ ছাড়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (৩০ জুন) এ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে গ্রাহকের কাছে পণ্য বা সেবা পৌঁছে দিতে পারলেই তারা সহজে ওই সেবা বা পণ্য বাবদ অর্থ পাবে।
দেশের সব ব্যাংক, বিকাশ, রকেট, নগদের মতো মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (এমএফএস) ও ডি মানি, আই-পের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ নির্দেশনা মেনে চলতে হবে বলেও জানান বাংলাদেশ ব্যাংক।
ইভ্যালি বা আলেশা মার্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এ ধরণের
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে- খাদ্য, মুদি, ওষুধ, রাইড শেয়ারিং, মোবাইল রিচার্জ, বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা, শিক্ষা মাশুল, হোটেল বুকিং, টিকেটিং (বাস, এয়ার, ট্রেন, লঞ্চ) কিংবা অনুরূপ নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং জরুরি পণ্য ও সেবা সঙ্গে সঙ্গে বা ৫ দিনের মধ্যে প্রদান করে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও অন্য আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজের বিবেচনায় অর্থছাড় করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছে পণ্য বা সেবা পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
তবে অর্থ পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লেনদেনের ঝুঁকি, গ্রাহকসেবার মান, পণ্য সরবরাহ সন্তুষ্টি এবং পারস্পরিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক পর্যালোচনা করে নিজ বিবেচনায় অর্থ ছাড় করবে। মূলত চালডাল, স্বপ্ন, পাঠাও, উবার, ফুডপান্ডার মতো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে গ্রাহকের কাছে পণ্য বা সেবা পৌঁছে দিতে পারবে না, তারা টাকা পাবে গ্রাহকের কাছ থেকে পণ্য বা সেবা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গ্রাহকের টাকা পরিশোধকারী ব্যাংক বা অন্য আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব নিষ্পত্তি (সেটেলমেন্ট) হিসাবে রেখে দেবে। তবে এ অর্থ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারবে না। পণ্য বা সেবা সরবরাহে যেসব প্রতিষ্ঠান ৭ দিনের বেশি সময় নেবে, অর্থছাড়ের জন্য তাদের গ্রাহকের নাম, মোবাইল নম্বর ও ক্রয়াদেশের বিবরণসহ একটি তালিকা অর্থ পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দিতে হবে।
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা সরবরাহের বিপরীতে অর্থছাড়ের জন্য যে তালিকা দেবে, সেই তালিকার কোনো গ্রাহক থেকে সেবা বা পণ্য না পাওয়ার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাইতে পারবে অর্থ পরিশোধ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান।